৭ আগস্ট ২০২২
আবুল কাশে অফিক, বালাগঞ্জ থেকে : বালাগঞ্জ-ওসমানীনগরের একমাত্র পত্রিকার এজেন্ট ও বিক্রেতা আব্দুছ ছালামের আর্থিক দন্যদশায় চলছে পারিবারিক সংসার! মহামারী করোনা কালীন সময় থেকে নিয়ে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা, উর্ধমুখী বাজার দরেও তার খবর নেয়নি কেউ! পাননি সরকারী-বেসরকারী কোন সাহায্য সহযোগিতা! খুবই কষ্টে কাটাচ্ছেন ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে । লোক লজ্জায় কারো কাছে হাত না পেতে চরম ধৈর্য্যরে সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন তার অভাবী সংসার।
জানা যায়, আব্দুছ ছালাম কাক ডাকা ভোরে প্রতি দিনের তাজা খবর নিয়ে অফিস আদালতে ও পাঠকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন পত্রিকা। ১৯৮৮ সাল থেকে আব্দুছ ছালাম পত্রিকা বিক্রি করে আসছেন। অনেকেই এ পেশা থেকে সরে গেলেও ছেড়ে যাননি আব্দুছ ছালাম। দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে এ পেশায় তিনি জড়িত রয়েছেন। বালাগঞ্জ বাস ষ্টেশন ও ওসমানীনগরের তাজপুর কদমতলাসহ ২ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পত্রিকা বিক্রির ব্যবসা করে আসা আব্দুছ ছালামের বাড়ি বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের চানপুর গ্রামে।
বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে পাঠক কমে যাওয়ায় পত্রিকার বিক্রি ব্যবসায়ও নেমেছে ধ্বস। পত্রিকা বিক্রি করে সংসার চালিয়ে কষ্টকর হওয়ায় অনেকেই এ পেশা বদল করেছেন। কিন্তু আব্দুছ ছালাম এ পেশা পরিবর্তন না করেই শেষ বয়সেই ধৈর্য্যরে সাথে চালিয়ে যাচ্ছেন পত্রিকার বিক্রির কাজ। তার সাথে কথা বলে জানা গেছে পত্রিকা কিক্রিতে তার লাভ না থাকলেও পত্রিকা বিক্রি তার পেশা ও নেশা হয়ে গেছে। যার কারণে এ পেশা ছেড়ে যেতে চাইলেও যেতে পারছেন না। অন্য কাজে তার মনও বসে না। এবারের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার সময় তার পত্রিকা বিক্রি বন্ধ হলেও কেউ তার খুঁজ খবর রাখেনি! বন্যায় বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কেউ কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতাও করেনি!
বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার অফিস আদালতে পায়ে হেটে আবার কখনো বাই সাইকেল করে রোদ বৃষ্টিতে ভিজে হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রমের মাধ্যমে দৈনিক ৪ শত টাকা রোজগার করতে তার ১৫০ টাকা খরচ হয়ে যায়। বাকি দৈনিক আয় দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া তো দূরের কথা ঠিকমত তার ঘরে ভাত ঝুটছে না।
এ বিষয়ে ২ উপজেলার সংবাদপত্র এজেন্সির মালিক ও বিক্রেতা আব্দুছ ছালাম বলেন, পত্রিকা বিক্রি আমার নেশা ও পেশা হয়ে গেছে। তথ্য প্রযুক্তির যুগে প্রিন্ট পত্রিকা বিক্রি কমে গেছে। এখন আর আগের মত পত্রিকা বিক্রি না হওয়ায় আমার ৬ সদস্যর পরিবার নিয়ে অনেক কষ্টে দিন যাপন করছি । আমি গবির মানুষ। সরকারি-বেসরকারী কোন সাহায্য সহায়তা পাইনি। বন্যায় আমার ঘর ভেঙ্গে গেছে সরকারী কোন সাহায্য পাই নাই।
বালাগঞ্জ বার্তার সম্পাদক শাহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, বিলিন হয়ে যাওয়ার পথে প্রিন্ট পত্রিকা প্রায় তিন যুগ ধরে মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন ছালাম ভাই। তিনি একজন গরিব মানুষ। তার খোঁজ খবর নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বালাগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রজত চন্দ্র দাস ভুলন বলেন, ছালাম ভাই দীর্ঘদিন থেকে এ পেশায় আছেন, তিনি একজন ভালো মনের মানুষ, সরকারি বেসরকারি ভাবে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের তার পাশে এগিয়ে আসা উচিৎ।
ওসমানীনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি উজ্জ্বল ধর বলেন, দূর্যোগে সংবাদপত্র এজেন্ট ও সাংবাদিকদের খোঁজ রাখার প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুনিম বলেন, সালাম ভাই একজন সৎ ও সাধারণ মানুষ। পত্রিকা বিক্রি করে সংসার জীবন পরিচালনা করেন। এটা জানি তবে সরকারী/বেসরকারি সহায়তা পেয়েছেন কি না আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি আমি দেখব।