৩ আগস্ট ২০২২


কোম্পানীগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে পাঠদান

শেয়ার করুন

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : স্কুল ভবনের সামনের ফ্লোর ভেঙে পড়েছে। সরে গেছে নিচের মাটি। শ্রেণিকক্ষের ভেতর দেখা দিয়েছে ফাটল। দেয়ালের প্লাস্টারও খসে পড়ছে। যে কোনও সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। শঙ্কা রয়েছে হতাহতের। এমন ঝুঁকি নিয়েই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে পাঠদান।

প্রধান শিক্ষক বনমালী চৌধুরী জানালেন, গত বন্যার পর থেকে স্কুলটির এমন দশা। শ্রেণি সংকট থাকায় নির্মাণাধীন নতুন ভবনেও যাওয়া যাচ্ছে না। তাই, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, একই উপজেলার মুরারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনেরও একই হাল। ভবনের নিচের মাটি সরে গেছে। বারান্দার ভঙ্গুর পিলার। যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

একই অবস্থা লাছুখাল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয়টির ফ্লোরের প্লাস্টার উঠে বিভিন্ন জায়গায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নিচের মাটি ধসে গেছে। ভবনের দেয়ালেও ফাটল ধরেছে। যে কোনও সময় দেয়াল ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া, ভোলাগঞ্জ রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। বন্যায় বিদ্যালয়টির বাউন্ডারি ওয়ালের মাটি সরে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু শিবপুর, মুরারগাঁও, ভোলাগঞ্জ কিংবা লাছুখাল নয়। এবারের ভয়াবহ বন্যায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫টি কলেজ, ৪টি দাখিল মাদ্রাসা, ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৬টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আক্রান্ত হয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলো খুলে দেওয়া হয়েছিল আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য। অবকাঠামোসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র, ফার্নিচার, নথিপত্র ও বইয়ের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠিয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ বদিউজ্জামান আহমদ বলেন, উপজেলার ২৪টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের। এছাড়া, অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের মাটি ধসে গেছে। টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্কারের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল হক জানান, উপজেলার ৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব কটিই বন্যার কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ তালিকায় ছয়টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে। টাকার পরিমাণে ২ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকাসহ চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন