৫ আগস্ট ২০২২


দেড় যুগেও মেরামত হয়নি ছাতক-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক

শেয়ার করুন

কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি : কোম্পানীগঞ্জ-ছাতক ১০ কিলোমিটার পাকা সড়কটির বেহাল দশা। পিচঢালাই উঠে স্থানে স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দুই পাশের ব্লক এবং মাটি সরে গেছে। এ অবস্থায় যান চলাচল অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। অধিক ভাড়াও গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এই সড়কটি দেড় যুগেও মেরামত হয়নি।

জানা গেছে, ২০০৪-০৫ সালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে আমবাড়ি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হয়। এর ফলে সুনামগঞ্জের ছাতকের সাথে কোম্পানীগঞ্জের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে ওঠে। শুরুতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কটির কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) মাটির কাজ, দুই পাশের ব্লক, একটি সেতু, দু’টি কালভার্টসহ পাকা সড়ক নির্মাণ করে। নির্মাণের পর থেকে সড়কটিতে আর মেরামত কাজ হয়নি। ফলে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বুড়িডহর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল আহমদ জানান, ছাতক-কোম্পানীগঞ্জ সড়কটির স্থানে স্থানে পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এই সড়কে হাঁটাও এখন ভীষণ দায়।

লামনীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আফতাব আলী জানান, সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এজন্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা পড়ে ভোগান্তিতে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা প্রয়োজন।

চাটিবহর গ্রামের ইউপি সদস্য ময়না মিয়া বলেন, কোনো না কোনো কাজের জন্য কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরে যেতে হয়। ভাঙা এই সড়কে যাতায়াতে দুর্ভোগের অন্ত নেই। একই গ্রামের মুরুব্বি কছির খা বলেন, রাস্তা একেবারে শেষ। কেউ খবর নেয় না এই রাস্তার। গাড়ি দিয়ে গেলে কোমর ভাঙে। মহাবিপদে আছি আমরা।

পথচারী আব্দুল বারী বলেন, গর্ভবতী মহিলাদের হাসপাতালেও নেওয়া যায় না। গত বুধবার আমার এক ভাতিজীকে হাসপাতালে নিতে পারিনি।

পথচারী মাওলানা হোসাইন আহমদ বলেন, সড়কটি নিয়ে এই অঞ্চলের মানুষ সীমাহীন কষ্টে আছে। রাস্তা সংস্কারের দাবিতে অতীতে আন্দোলন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। তবুও কোন কাজ হয়নি।

সিএনজি অটোরিকশা চালক লাহিন বলেন, কোম্পানীগঞ্জ-ছাতক সড়কে নিয়মিত গাড়ি চালাই। একবার গেলে আর যেতে মন চায় না। গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। ভাঙা স্থানে গাড়ি উল্টে ঘটে দুর্ঘটনা।

জাকির হোসেন নামের স্থানীয় এক যুবক বলেন, সড়কের দুই পাশের ব্লকগুলো মানুষ সরিয়ে ফেলেছে। সড়কের পাথর অনেকে বাড়ি নির্মাণ কাজে ব্যবহার করছে। ব্লক সরিয়ে ফেলায় গত বন্যায় সড়কের অনেকাংশে দুই পাশের মাটি ধসে পড়েছে। এতে সড়কটি আরও ঝুঁকিতে পড়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শামীম আহমদ বলেন, শুরুতে সড়কটির মাটির কাজ এলজিইডি করলেও পরবর্তীতে সওজের কাছে এর দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। মাঝখানে কিছুদিন এ সড়ক নিয়ে এলজিইডি-সওজের মধ্যে রশি টানাটানি হয়েছে। এ সড়ক মেরামতের জন্য মন্ত্রী ইমরান আহমদ ডিও লেটার দিয়েছিলেন। কিন্তু, সংশ্লিষ্টরা এগিয়ে আসেননি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, সড়কটির নির্মাণ কাজ শুরুতে এলজিইডি করেছে। এটির দেখভালের দায়িত্ব এখন সওজের। মেরামত না হওয়ার কারণ সওজ’ই বলতে পারবে।

সিলেট সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছাতক – কোম্পানীগঞ্জ সড়কটি আগেই ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। এবার বন্যায় আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেরামতের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি একটি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য কাজ চলছে। এই সড়কটি সিলেট – কোম্পানীগঞ্জ – ভোলাগঞ্জ সড়কের মতো কংক্রিটে (রিজিড পেভমেন্ট) তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য মন্ত্রী মহোদয় (ইমরান আহমদ) ডিও লেটার দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন