১৮ নভেম্বর ২০২৩
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা,গোয়াইনঘাট: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় এতদিন ধরে বোরোর সেরা জাত ছিল ব্রি উদ্ভাবিত ব্রি ধান-২৮ ও ব্রি ধান-২৯। ১৯৯৪ সালে উদ্ভাবিত এ দুটি বোরো জাত দেশের বোরে এলাকার প্রায় সিংহভাগ দখল করে ছিল। অনেক বিকল্প জাত উদ্ভাবিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে বোরো আবাদে কৃষকের বড় একটি অংশের কাছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জাত ছিল ব্রি ধান-২৮ ও ২৯। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আবাদ হওয়া এ জাত দুটির রোগবালাই সহনশীলতা ক্রমেই হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা তা আবাদে নিরুৎসাহিত করে আসছিলেন।
পাশাপাশি ব্রি উদ্ভাবিত বিকল্প জাত ব্রি ধান-৮৮, ৮৯, ৯২, ৯৪ ও বঙ্গবন্ধু ধান-১০০সহ কয়েকটি জাত চাষ করার পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন। রোগবালাই সহনশীল ও উচ্চ ফলনের কারণে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালে উদ্ভাবিত এ জাতগুলোর প্রতি কৃষকের আস্থা ক্রমেই বেড়েছে। এবার মাঠে কৃষকের মাঝে ভালো সাড়া ফেলেছে এ পাঁচটি বোরোর জাত। কৃষক বলছেন, এ জাতগুলোর ফলন আশাতীত ও অভাবনীয়। তাই বর্তমানে কৃষকেরা বীজের দোকানগুলোতে নতুন জাতের বোরো ধানের বীজ ক্রয় করে বীজতলা তৈরি ও বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
স্হানীয় সালুটিকর বাজারে ডিলার এমাদ জানান,উপজেলা কৃষি অফিস ও আমরা কৃষকদের নতুন জাতের বীজের কথা বলে আসছি।প্রথম প্রথম কিচ্ছু কৃষক অনাগ্রহ দেখালেও যে ২-৪ জন কৃষক নতুন জাতের বীজের ফসল লাগিয়ে ভালো উৎপাদন হওয়ায় এই বছর কৃষকদের নতুন জাতের বীজ ক্রয়ে আগ্রহ বেড়েছে।এমাদ বলেন,উপজেলা কৃষি অফিসের পাশাপাশি আমরা কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের কৃষি পরামর্শ দিয়ে তাদের উৎসাহিত করি।
নওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম গতবছর ৯৪ জাতের বোরো ধান আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন এবং এলাকায় তিনি ভালো ফলনে খুব আলোচনায় ছিলেন।এলাকার সকল কৃষককে তিনি নতুন জাতের বোরো ধান আবাদ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
একটা সময় পরিশ্রম বেশি হওয়ায় ধান চাষে কৃষকের অনীহা দেখা যেত, কিন্তু এখন সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ ও প্রণোদনা সহায়তার কারণে কৃষক পতিত জমিতে ধান চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছে। নতুন জাতের ধানের ফলন ভালো হওয়ায় বেশ লাভবান হচ্ছে।তাই তারা বীজের দোকানে নতুন জাতের বোরোর বীজ ক্রয় ও পরামর্শ নিচ্ছেন। এমনটাই জানালেন ডিলার এমাদ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আবাদ হওয়া এ জাত দুটির রোগবালাই সহনশীলতা ক্রমেই হ্রাস পাওয়ায় স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা তা আবাদে নিরুৎসাহিত করে আসছেন। প্রথম প্রথম কৃষকরা নতুন জাতের বোরো ধান আবাদে আগ্রহ কম ছিল। এই বছর এসে অনেকের দেখাদেখি এবং কৃষি অফিসের পরামর্শে তারা নতুন জাতের বোরো ধান আবাদে উৎসাহিত হয়েছে।